একনজরে

10/recent/ticker-posts

Sleep Keep Younger ঘুমোবেন কতটা? জেনে নিন এখনই। গবেষণায় উঠে এল বিস্ময়কর তথ্য


খোশখবর ডেস্কঃ আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রায় বেড়েই চলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি থেকে নানাক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা। সময়ের হাওয়ায় গা ভাসিয়ে অনেকেই তুড়ি মেরে পাল্টে ফেলছি ঘুমের সময়। আর এতে নিজেদের অজান্তেই শরীরের ভেতরে বইয়ে দিচ্ছি ধ্বংসাত্মক পরিবর্তনের ঝড়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হচ্ছে 'অকাল বার্ধক্য'। সদ্য প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন আমার আপনার ঘুমের ধরনই জৈবিক বয়স বাড়িয়ে দেওয়া বা ধরে রাখার বিষয়ের জন্য দায়ী।প্রখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা 'Nature'-এ প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা আমাদের আশ্চর্য তথ্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এনডিটিভি ডট কম।


ঘুমের অভাব ও শারীরিক অসুস্থতার রয়েছে গভীর যোগসূত্র। গবেষণায় উঠে এসেছে দীর্ঘকাল তরুণ থাকা কেবল রূপচর্চার বিষয় নয়, বরং এটি আপনার ঘুমের 'গোল্ডেন আওয়ার' বা স্বর্ণালী সময়ের ওপর নির্ভরশীল। ইংল্যান্ডের 'ইউকে বায়োব্যাঙ্ক' (UK Biobank)-এর প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এক বিস্ময়কর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তারা দেখেছেন, যারা প্রতিদিন গড়ে ৬.৪ থেকে ৭.৮ ঘণ্টা বা গড়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমোন তাদের শরীরের কোষের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সবচেয়ে কার্যকর থাকে।



 বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন এই নির্দিষ্ট সময়সীমাটিই হলো জৈবিক তারুণ্য রক্ষার সেই কাঙ্ক্ষিত 'গোল্ডেন আওয়ার'। এই সময়ে ঘুমানো শরীরের অভ্যন্তরীণ মেরামত প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে দেয় এবং জৈবিক ঘড়িকে সঠিক ছন্দে চালায়, যা আমাদের বার্ধক্যের গতিকে কমিয়ে দেয়।


এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুনাও ওয়েন। তাঁর কথায়, “খুব কম বা খুব বেশি ঘুম শরীরের প্রায় সব অঙ্গের দ্রুত বার্ধক্যের সঙ্গে যুক্ত। এটি প্রমাণ করে, মস্তিষ্ক ও শরীর সুস্থ রাখতে ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” গবেষকরা মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে শরীরের ১৭টি অঙ্গ-প্রণালীর জন্য ২৩টি “বায়োলজিক্যাল ক্লক” তৈরি করেন।


গবেষকরা ঘুমের ক্ষেত্রে একটি ‘U- আকারের প্যাটার্ন’ লক্ষ্য করেছেন – যা অনেকটা 'গোল্ডিলকস জোন'-এর সঙ্গে তুলনীয়। যেখানে খুব কম ৬ ঘণ্টার নিচে বা খুব বেশি ৮ ঘণ্টার ওপর ঘুম, উভয়ই শরীরের জন্য সমান বিপজ্জনক। অর্থাৎ কেউ যদি ভাবেন ছুটির দিনে একটু বেশি ঘুমিয়ে শরীরের ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন তবে তা হবে একেবারেই ভুল। কাজেই সাবধান হোন আজই। অবৈজ্ঞানিক ঘুম শরীরের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যে আঘাত করে, বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের পথ প্রশস্ত করে। কাজেই প্রতিদিন গড়ে ৬.৪ থেকে ৭.৮ ঘণ্টা ঘুমোন - মন্থর করে নিন আপনার বার্ধক্যের গতিকে।

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code