একনজরে

10/recent/ticker-posts

Google Alphabet Debug Project এবার মশা তাড়াবে গুগল, অভিনব পরিকল্পনা টেকজায়ান্ট আলফাবেটের


খোশখবর ডেস্কঃ মাছি তাড়ানো নয় এবার মশা তাড়াতে কোমর কষে নামছে গুগল। এটা শুনে আপনি যদি ভাবেন কিঞ্চিৎ ভুল শুনেছেন তাহলে আপনার অবাক হওয়ার এখনও অনেক বাকি। কারণ বিশ্বের সবজান্তা গুগলখুড়ো তো আমড়াতলার মোড়ের দোকানদার নয় যে সে মাছি তাড়াবে। আসলে সত্যিই পৃথিবী থেকে মশা তাড়াতে এক অভিনব পরিকল্পনার কথা ভেবেছে এই টেকজায়ান্ট। ব্যাপারটা একটু খুলেই বলা যাক।


মশা হল বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রানী। আর মানুষের জন্য ক্ষতিকর প্রানীর বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে চলেছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান Alphabet-এর স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিভাগ ভেরিলি (Verily)। ব্যাপারটা ঠিক কী রকম? দি প্রিন্ট তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রোগ ছড়ানো মশার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা। এজন্য বিজ্ঞানীরা পুরুষ মশার শরীরে ওবাচিয়া (Wolbachia) নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এই ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত পুরুষ মশা যখন বন্য পরিবেশের স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন উৎপন্ন ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় না। ফলে পরবর্তী প্রজন্মের মশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

গুগলে আরও খোশখবর 


আর সোজা কথায় মশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে মানুষের মশাবাহিত ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা বা অন্যান্য রোগের ভয় দূর হবে। গুগলের মতে তাদের ‘ডিবাগ’ নামের প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ‘খারাপ মশা’ দমনে আরও বেশি ‘ভালো মশা’ ছেড়ে দেওয়া।

ডিবাগ প্রকল্পের আরেকটি বিশেষ দিক হল এর প্রযুক্তিনির্ভর পরিকাঠামো। কোটি কোটি মশা উৎপাদনের জন্য তারা তৈরি করেছে স্বয়ংক্রিয় রোবট। পাশাপাশি মশা শনাক্তকারী সেন্সর এবং এ আই এর সাহায্যে বাছাই ব্যবস্থা। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পুরুষ ও স্ত্রী মশাকে আলাদা করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রকল্পটির ছয়টি ধাপ রয়েছে -

১। ওবাচিয়া-আক্রান্ত পুরুষ মশা তৈরি করা।

২। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় তাদের ব্যাপকভাবে প্রজনন করা।

৩। পুরুষ ও স্ত্রী মশাকে আলাদা করা।

৪। নির্দিষ্ট এলাকায় পুরুষ মশা ছেড়ে দেওয়া।

৫। স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলনের ফলে ডিম ফুটতে না দেওয়া।

৬। ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পুনরাবৃত্তি করা।


ইউরো নিউজ তাদের রিপোটে লিখেছে এই ভাল মশা আসলে পুরুষ মশা। কারণ শুধুমাত্র স্ত্রী মশাই মানুষ বা প্রাণীর রক্ত পান করে এবং সেই সময় রোগজীবাণু ছড়ায়। পুরুষ মশা রক্ত খায় না, ফলে তারা রোগও ছড়াতে পারে না। বিজ্ঞানীদের হিসেব বিশ্বে ৩,০০০-এরও বেশি প্রজাতির মশা রয়েছে। তবে সব মশাই সমান বিপজ্জনক নয়। মানুষের জন্য ক্ষতিকর মশাটি হল এডিস ইজিপ্টিই।


Debug প্রকল্পে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় মোট ৬ কোটি ৪০ লক্ষ বিশেষ মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়েছে গুগল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই বছরে ধাপে ধাপে মশাগুলো ছাড়া হবে। এই প্রকল্প কার্যকর করার আগে আগে অনুমোদন লাগবে ইউনাইটেড স্টেটস এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির। ছাড়পত্র মিললেই শুরু হয়ে যাবে মশার বংশ ধ্বংসের জন্য গুগলের লড়াই। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিক ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আলফাবেটের এই মডেল গোটা বিশ্বেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code