একনজরে

10/recent/ticker-posts

Google's Android Earthquake Alerts ভূমিকম্পের আগেই সতর্কতা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে, কার্যকারিতা পথ দেখাল ভেনেজুয়েলায়?


খোশখবর ডেস্কঃ পৃথিবীজুড়ে প্রতিদিনই হয়ে চলেছে একের পর এক ভূমিকম্প। এর মধ্যে রিখটার স্কেলে বড় মাপের কম্পন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েই তা নজরে আসে গোটা বিশ্বের। কিন্তু এই ক্ষয়ক্ষতি থেকে আগাম বাঁচার কী কোনও উপায় নেই? সদ্য দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলায় পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প একটি তথ্য সামনে এনে দিয়েছে – যা ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পেও বাঁচিয়ে দিতে পারে হাজার হাজার প্রাণ।


ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের কাছে আঘাত হানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প। বিষয় হল ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক মুহূর্ত আগেই সতর্কবার্তা পৌঁছে গিয়েছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করে আশপাশের ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠায়। ফলে প্রবল কম্পন শুরু হওয়ার আগে কিছুটা ভাবতে কয়েক সেকেন্ড সময় পান বহু মানুষ।


গুগল কী ভূমিকম্পের আগাম খবর দিতে পারে?

প্রশ্ন হল গুগল কী তার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের মাধ্যমে কোনও এলাকার মানুষকে প্রবল কম্পন শুরু হওয়ার আগেই সতর্কবার্তা দিতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর ‘হ্যাঁ’ হতে পারে আবার ‘না’ হতে পারে। তবে আগাম খবর পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। কী সেই শর্ত? বিশেষজ্ঞদের কথায় গুগল ভূমিকম্পের ভবিষ্যদ্বাণী করেনি। বরং ভূমিকম্পের শুরুর সংকেত শনাক্ত করে প্রবল কম্পন শুরু হওয়ার আগেই সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।



গুগল কীভাবে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে?

এক্ষেত্রে জানা দরকার একটি স্মার্টফোন কীভাবে ভূমিকম্প শনাক্ত করে? আসলে প্রায় সব স্মার্টফোনেই অত্যন্ত সংবেদনশীল অ্যাক্সেলেরোমিটার সেন্সর থাকে। এই সেন্সর মাটির অস্বাভাবিক কম্পন বা ভূমিকম্পের প্রাথমিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো একটি বিশাল সেন্সর নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে। ফোনের অ্যাক্সেলেরোমিটার প্রথমে ‘পি-ওয়েভ’ বা প্রাথমিক ভূকম্পন তরঙ্গ শনাক্ত করে, যা তুলনামূলকভাবে দ্রুত গতিতে ছড়ায় এবং ধ্বংসাত্মক ‘এস-ওয়েভ’-এর আগে পৌঁছে যায়।

গুগলের নেটওয়ার্ক কীভাবে কাজ করে?

প্রযুক্তিবিদদের ব্যখ্যা যখন কোনও ফোন ভূমিকম্পের সম্ভাব্য কম্পন অনুভব করে, তখন সেটি গুগলের ভূমিকম্প শনাক্তকরণ সার্ভারে একটি সংকেত পাঠায়। তাতে ভূমিকম্প কোথায় ঘটছে তার একটি আনুমানিক অবস্থানও যুক্ত থাকে। যদি একই ধরনের সংকেত একসঙ্গে বহু ফোন থেকে পাওয়া যায়, তাহলে গুগলের সার্ভার সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠায়। সংকেত আলোর গতির কাছাকাছি গতিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৌঁছে যায়, যা ভূমিকম্পের কম্পন তরঙ্গের চেয়ে অনেক দ্রুত। ফলে ভূমিকম্পের মূল ধাক্কা পৌঁছানোর আগেই মানুষ সতর্কবার্তা পেয়ে যায়।



প্রযুক্তিই বাঁচিয়ে দিতে পারে মানুষকে?

ভূমিকম্প থামানো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সঠিক সময়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি মানুষের জন্য অমূল্য কিছু জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করে বড় ধাক্কা আসার আগেই সতর্কবার্তা পাঠিয়ে বিপদ ও বেঁচে থাকার মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code