একনজরে

10/recent/ticker-posts

India lightning strikes rise বাজ পড়া এত বাড়ছে কেন? বিজ্ঞানীদের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য,থামানোর উপায়টা কী?

 


খোশখবর ডেস্কঃ বজ্রপাত - প্রকৃতির এই সুন্দর অথচ রুদ্ররূপ মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিতে পারে অসংখ্য প্রাণ। এক সময় বজ্রপাতকে কেবল ঋতুভিত্তিক দুর্যোগ মনে করা হলেও, এখন তা বড় আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক বিষয় হলেও আপনি নিশ্চই খেয়াল করেছেন ইদানিং অনেকটা বেড়ে গেছে বাজ পড়া। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে শুরু করে গোটা দেশে এমন কী বিদেশেও বেড়ে গেছে বজ্রপাত। কেন এমন হচ্ছে? খোশখবরের আলোকপাত তা নিয়েই।


বজ্রপাতের বেড়ে চলার জন্য বাতাসে দূষণ, ধূলিকণার পরিমাণ এবং সেই সঙ্গে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকেই দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা। আকাশের এই ভয়ঙ্কর বাজপড়া এখন আর কোনো নির্দিষ্ট মরশুমে সীমাবদ্ধ নেই। পাশাপাশি প্রতি বছর দেশে বজ্রপাতের হার ৭ থেকে ১৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গুগলে আরও  খোশখবর


বজ্রপাতের এই বেড়ে চলা নিয়ে সদ্য এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিষয়ক পত্রিকা ‘ডাউন টু আর্থ’ । তাতে বলা গত পাঁচ বছরে ২০১৯-২০ থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে দেশজুড়ে বজ্রপাতের সংখ্যা প্রায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির জন্য বজ্রপাতের সম্ভাবনা ৮-১০ শতাংশ বেড়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাবটি বর্তমানে বন্যা বা ভূমিকম্পের মতোই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।


ভারতে বজ্রপাতের নতুন 'হটস্পট' হয়ে উঠছে মরুভূমি ও হিমালয়। তথ্য অনুযায়ী বজ্রপাতের ভৌগোলিক মানচিত্রে এক বিস্ময়কর পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে মূলত পূর্ব ভারত এবং উপকূলীয় অঞ্চলে এটি বেশি দেখা যেত, কিন্তু এখন রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং গুজরাতের কচ্ছের মতো শুষ্ক অঞ্চলগুলো নতুন ‘হটস্পট’ হিসেবে উঠে এসেছে।

নদী অববাহিকা এবং দ্রুত নগরায়ন হওয়া অঞ্চলগুলোতে বজ্রপাত বাড়ার পেছনে মানুষের পরিকল্পনাহীন নীতিকেই সরাসরি দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা। গঙ্গা, যমুনার মতো সমভূমি অঞ্চলে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ‘হিট আইল্যান্ড’ (Heat Island) বা ‘অতিরিক্ত উষ্ণ অঞ্চল’ তৈরি হচ্ছে। এই বাড়তি তাপ স্থানীয়ভাবে বাষ্পীভবন বাড়িয়ে দেয়, যা দ্রুত বজ্রবিদ্যুৎপূর্ণ ঘন মেঘ তৈরি করতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছে গঙ্গা ও যমুনা অববাহিকা, মহানদী ও গোদাবরী অববাহিকা, তাপ্তি ও নর্মদা অববাহিকাগুলো।


এক সময় কেবল এপ্রিল-মে মাসের ‘কালবৈশাখী’র সময় বজ্রপাত হতো, কিন্তু এখন এটি একটি সারাবছরের বিপদে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা WMO-র ‘স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ক্লাইমেট ২০২৩’ রিপোর্ট অনুযায়ী, ঝড় ও বজ্রপাতজনিত ক্ষয়ক্ষতি বর্তমানে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম বজ্রপাতের ঘটনা কমাতে হলে এখনই উষ্ণায়ন বা তাপমাত্রা বৃদ্ধি কমানো প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। এর জন্য জলাশয় পুনরুদ্ধার, জল সংরক্ষণ, বনসৃজন, পুনরায় ব্যবহার যোগ্য শক্তির ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ ও দূষণ হ্রাসের ওপর জোর দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত মোকাবিলায় প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপক, কর্পোরেট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যেই দেশে ‘লাইটনিং রেজিলিয়েন্ট ইন্ডিয়া ক্যাম্পেইন’ চালু হয়েছে। প্রতি বছর ১৩ এপ্রিল জাতীয় বজ্রপাত দিবস পালন করা হয়।

তথ্যঃ ডাউন টু আর্থ

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code