খোশখবর ডেস্কঃ মানুষ কী পশুদের রাজা বলে পরিচিত সিংহের চেয়েও বেশি হিংস্র? আফ্রিকার সাভানায় বন্যপ্রাণীদের আচরণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এক বিস্ময়কর তথ্য পেয়েছেন। এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানে বসবাসকারী প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রাণী সিংহের চেয়ে আরও বেশি ভয় পায় অন্য এক প্রাণীকে।এবং তারা আর কেউ নয়,মানুষ। পরিবেশবিদ লিয়ানা জানেট এবং তাঁর সহকর্মীদের দক্ষিণ আফ্রিকায় ও অস্ট্রেলিয়ায় করা সমীক্ষা তুলে ধরে এই তথ্য প্রকাশ করেছে সায়েন্স অ্যালার্ট ওয়েবসাইট।
আফ্রিকায় জলাশয়ের ধারে অভিনব পরীক্ষা
২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় পরিবেশবিদ লিয়ানা জানেট ও তাঁর সহকর্মীরা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বন্য সিংহের আবাসস্থল দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রেটার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের বিভিন্ন জলাশয়ের পাশে স্পিকার ও ক্যামেরা বসিয়ে একটি অভিনব পরীক্ষা চালান।
পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের শব্দ বাজানো হয়। এর মধ্যে ছিল স্থানীয় ভাষা সোঙ্গা, নর্দার্ন সোথো, ইংরেজি ও আফ্রিকান্সে মানুষের স্বাভাবিক কথোপকথন, শিকার অভিযানের সময় কুকুরের ঘেউ ঘেউ ও বন্দুকের গুলির আওয়াজ, এবং সিংহের গর্জন, গরগর ও পারস্পরিক যোগাযোগের ডাক।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ১৯টি স্তন্যপায়ী প্রাণীর আচরণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মানুষের কণ্ঠস্বর শোনার পর তাদের জলাশয় ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা এবং সম্ভাবনা সিংহের ডাক বা শিকার সংক্রান্ত শব্দের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি।
বিখ্যাতদের বাণী, ঢুকে পড়ুন আশ্চর্য এক কোটেশন সাইটে
অস্ট্রেলিয়াতেও মিলেছে একই ফল
পরে একই গবেষক দল অস্ট্রেলিয়ায় একই ধরনের পরীক্ষা চালায়। সেই গবেষণায় দেখা যায়, ক্যাঙ্গারু, ওয়ালাবি ও অন্যান্য মারসুপিয়াল প্রাণীরাও মানুষের উপস্থিতিকে অন্য যেকোনো শিকারির তুলনায় বেশি ভয় পায়। গবেষকদের হিসেব মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় এসেছে আনুমানিক ৬০ হাজার বছর আগে। অর্থাৎ মানুষের প্রতি এই প্রবল ভয় গড়ে তুলতে কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের প্রয়োজন হয়নি।
অস্ট্রেলিয়াতেও মিলেছে একই ফল
পরে একই গবেষক দল অস্ট্রেলিয়ায় একই ধরনের পরীক্ষা চালায়। সেই গবেষণায় দেখা যায়, ক্যাঙ্গারু, ওয়ালাবি ও অন্যান্য মারসুপিয়াল প্রাণীরাও মানুষের উপস্থিতিকে অন্য যেকোনো শিকারির তুলনায় বেশি ভয় পায়। গবেষকদের হিসেব মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় এসেছে আনুমানিক ৬০ হাজার বছর আগে। অর্থাৎ মানুষের প্রতি এই প্রবল ভয় গড়ে তুলতে কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের প্রয়োজন হয়নি।
যদিও একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনাও ঘটে। গবেষণার সময় এক রাতে সিংহের ডাক বাজানোর পর একটি হাতি এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়ে যে সেটি দৌড়ে এসে গবেষণায় ব্যবহৃত ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভেঙে ফেলে। গবেষকদের মতে, বন্য পরিবেশে এমন প্রতিক্রিয়া অস্বাভাবিক নয়।
সিংহ নয়, মানুষের কণ্ঠস্বরেই বেশি পালায় প্রাণীরা
পরীক্ষায় দেখা গেছে অংশ নেওয়া ১৯টি স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রায় সবাই মানুষের কথাবার্তার শব্দ শুনে জলাশয় ছেড়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা সিংহের ডাক বা শিকারের শব্দের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি দেখিয়েছে। এই সব এই প্রাণীদের মধ্যে ছিল গণ্ডার, হাতি, জিরাফ, চিতাবাঘ, হায়েনা, জেব্রা, বুনো শূকরসহ আরও অনেক প্রজাতি। গবেষণাগুলো Current Biology এবং Proceedings of the Royal Society B সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গুগলে আরও খোশখবর
বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে দেখা গেছে একই চিত্র। আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল একই ইঙ্গিত দিচ্ছে—বন্যপ্রাণীদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ের প্রাণী মানুষ। তবে তবে এই গবেষণা একটা নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকায় যেখানে গণ্ডার শিকারের বিপদ বেশি, সেখানে মানুষের কথোপকথনের রেকর্ড বাজিয়ে বিপন্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় সাদা গণ্ডারকে শিকারিদের সম্ভাব্য অবস্থান থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা করছেন গবেষকরা।
তথ্যঃ সায়েন্স অ্যালার্ট ওয়েবসাইট
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


0 মন্তব্যসমূহ