খোশখবর ডেস্কঃ উইম্বলডন বলতেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে বিশ্বের বিখ্যাত টেনিস প্লেয়ারদের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের ছবি। উইম্বলডন-এর আনুষ্ঠানিক নাম দ্য চ্যাম্পিয়নশিপস (The Championships), যা হল বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন এবং মর্যাদাপূর্ণ টেনিস টুর্নামেন্ট।পাশাপাশি উইম্বলডন বিশ্বের চারটি মর্যাদাপূর্ণ গ্র্যান্ড স্ল্যাম টেনিস প্রতিযোগিতারও একটি। অনেকেই মানেন উইম্বলডন শুধু একটি টেনিস প্রতিযোগিতাই নয়, এটি ব্রিটিশ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও প্রতীক।
উইম্বলডন আসলে কোথায়?
উইম্বলডন ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের একটি ঐতিহাসিক উপশহর এবং লন্ডন বরো অব মের্টনের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এছাড়া নিউ উইম্বলডন থিয়েটার ও বিস্তীর্ণ উইম্বলডন কমনের জন্যও এলাকাটি পরিচিত। উইম্বলডনের ইতিহাস প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। মধ্যযুগ ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজপরিবার ও অভিজাত পরিবারের হাতে এর মালিকানা পরিবর্তিত হয়েছে। ১৮৩৮ সালে রেলওয়ে স্টেশন চালু হওয়ার পর উইম্বলডনের দ্রুত নগরায়ণ শুরু হয়। বর্তমানে এটি দুটি প্রধান অংশ—‘ভিলেজ’ ও ‘টাউন’—নিয়ে গড়ে উঠেছে। আজ উইম্বলডন ঐতিহ্য, আধুনিক নগরজীবন এবং বিশ্ব টেনিসের এক অনন্য মিলনস্থল।
উইম্বলডন টেনিস, আলাদা কোথায়?
উইম্বলডনকে বলা হয় বিশ্বের প্রাচীনতম ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টেনিস প্রতিযোগিতা। ফি বছর জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের প্রথম দিকে ইংল্যান্ডের লন্ডনে অবস্থিত অল ইংল্যান্ড লন টেনিস অ্যান্ড ক্রোকে ক্লাব-এ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এটি চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টের মধ্যে একমাত্র, যা এখনও ঐতিহ্যবাহী ঘাসের কোর্টে (Grass Court) অনুষ্ঠিত হয়। অন্য তিনটি হলো অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন (রোলাঁ গারোঁ) এবং ইউএস ওপেন।
উইম্বলডন টেনিসের ইতিহাস
১৮৭৭ সালে দ্য অল ইংল্যান্ড ক্রোকে অ্যান্ড লন টেনিস ক্লাব নতুন খেলা লন টেনিসকে জনপ্রিয় করে তুলতে প্রথম উইম্বলডন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেই প্রথম আসরে মাত্র ২২ জন পুরুষ খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিলেন এবং দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় ২০০ জন। ফাইনাল ম্যাচ লন্ডনের কাছেই উইম্বলডনের একটি মাত্র ঘাসের কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়। যদিও এর পরে টুর্নামেন্টটি দ্রুত আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করে। ১৮৮৪ সালে প্রথমবারের মতো মহিলা একক (Women's Singles) এবং পুরুষ ডাবলস (Men's Doubles) বিভাগ যুক্ত হয়, যা উইম্বলডনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
উইম্বলডনের ঐতিহ্য
উইম্বলডন বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন টেনিস টুর্নামেন্টের পাশাপাশি এতে খেলোয়াড়দের জন্য সম্পূর্ণ সাদা পোশাক পরার কঠোর নিয়ম টুর্নামেন্টের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যকে আজও অক্ষুণ্ণ রেখেছে। খেলোয়াড়দের ম্যাচ চলাকালীন প্রায় সম্পূর্ণ সাদা পোশাক পরতে হয়। পেশাদার ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে কঠোর পোশাকবিধিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। অন্যদিকে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে শুধুমাত্র উইম্বলডনই ঘাসের কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়, যা খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ কৌশল ও দক্ষতার পরীক্ষা।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি এই প্রতিযোগিতায় রাজকীয় মর্যাদা যোগ করে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যরা নিয়মিত উইম্বলডনের ম্যাচ উপভোগ করেন। তাঁরা কোর্টের বিশেষ রয়্যাল বক্স থেকে খেলা দেখেন।
উইম্বলডনের অনন্য আবহ
অনেকেই বলেন উইম্বলডন শুধু একটি টেনিস প্রতিযোগিতা নয়, এটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সৌন্দর্যের এক উৎসব। উইম্বলডনের সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার হলো স্ট্রবেরি ও ক্রিম। টাটকা স্ট্রবেরির সঙ্গে ক্রিমের এই সহজ কিন্তু সুস্বাদু সংমিশ্রণ বহু বছর ধরে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রতীক। কাজেই ম্যাচ দেখতে দেখতে স্ট্রবেরি ও ক্রিম খাওয়া উইম্বলডনের দর্শকদের কাছে অনন্য অভিজ্ঞতা। উইম্বলডনের আরেকটি ঐতিহ্য হলো 'দ্য কিউ'। বিশ্বের অল্প কয়েকটি বড় ক্রীড়া ইভেন্টের মধ্যে এটি এমন একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে দর্শকরা ম্যাচের দিন দীর্ঘ ও সুশৃঙ্খল লাইনে অপেক্ষা করে সরাসরি প্রিমিয়াম টিকিট কেনার সুযোগ পান।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ