একনজরে

10/recent/ticker-posts

Space Observatory Rescue Robot মহাকাশে ‘ সুইফট অবজারভেটরি’ বাঁচাতে রোবট পাঠাচ্ছে নাসা, ইতিহাসে এই প্রথম


খোশখবর ডেস্কঃ বিজ্ঞানীরা আগেই জানিয়েছেন যে আগামীদিনের পৃথিবী চলে যেতে চলেছে রোবটের হাতে। এবার সেই রোবোটিক প্রযুক্তির হাত ধরেই মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে হতে চলেছে অভাবনীয় ও বৈপ্লবিক অধ্যায়ের সূচনা। প্রায় মৃত্যুর মুখে থাকা নাসার ‘সুইফট’ মানমন্দির বা অবজারভেটরিকে বাঁচাতে মহাকাশে যাচ্ছে এক রোবট।

নাসার ‘সুইফট’ মানমন্দির আসলে কী?

২০০৪ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল সুইফট অবজারভেটরিকে। এই ‘নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’ গত ২০ বছর ধরে মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ বা ‘গামা-রে বার্স্ট’ (Gamma-ray burst) অনুসন্ধানে একাই কাজ করে চলেছে। অতিবেগুনি ও এক্স-রে তরঙ্গের মাধ্যমে এটি মহাবিশ্বের অসংখ্য রহস্য উন্মোচন করেছে। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি মহাবিশ্বের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। কিন্তু সম্প্রতি নাসা জানিয়েছে, টেলিস্কোপটি দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছে এবং পৃথিবীর দিকে নেমে আসছে।


সুইফট অবজারভেটরির এই বিপদ কেন?

আসলে এই সংকটের মূলে রয়েছে বর্তমান সময়ের তীব্র ‘সৌর সক্রিয়তা’। সূর্যালোকের প্রখর উত্তাপে পৃথিবীর উপরিভাগের বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত হয়, যার ফলে মহাকাশযানের ওপর ঘর্ষণ বৃদ্ধি পায় এবং তা গতি হারিয়ে উচ্চতা হারায়। সাধারণত নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে (Low Earth Orbit) থাকা সব উপগ্রহই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অতি ক্ষীণ টানের কারণে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসে। তবে সাম্প্রতি তীব্র সৌর সক্রিয়তার (Solar Activity) প্রভাবে সুইফটের কক্ষপথ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে শেষ পর্যন্ত এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।



কীভাবে বাঁচানো হবে সুইফট অবজারভেটরিকে?

মহাকাশে থাকা মানমন্দিরকে বাঁচাতে প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের চুক্তিতে বেসরকারি সংস্থা ক্যাটালিস্ট স্পেস -এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে নাসা। সংস্থাটি LINK নামে একটি বিশেষ রোবোটিক মহাকাশযান তৈরি করেছে। প্রথাগতভাবে নাসার যেকোনো বড় প্রকল্প কয়েক দশক সময় নিলেও, ক্যাটালিস্ট স্পেস মাত্র এক বছরেরও কম 'রেকর্ড সময়ে' এই অত্যাধুনিক উদ্ধারকারী যানটি প্রস্তুত করেছে। নাসার মতে, এই প্রজেক্টটি মহাকাশ বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, Pegasus XL রকেটে করে LINK-কে মহাকাশে পাঠানো হবে। সেখানে পৌঁছে রোবটটি সুইফট অবজারভেটরিকে ধীরে ধীরে কয়েক মাসের মধ্যে আরও উঁচু ও নিরাপদ কক্ষপথে তুলে দেবে।

নাসা ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই রোবোটিক সার্ভিসিং প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে বিখ্যাত ‘হাবল স্পেস টেলিস্কোপ’-কেও একইভাবে কক্ষপথে সরিয়ে তুলে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য সচল রাখা সম্ভব হবে। এটি মহাকাশ গবেষণায় কোনো মূল্যবান যন্ত্রপাতিই আর চিরতরে হারিয়ে যাবে না। এদিকে, উদ্ধার অভিযান না হওয়া পর্যন্ত নাসার বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদেরা সুইফটের কক্ষপথ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন যাতে এটি পৃথিবী থেকে অন্তত ৩০০ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকতে পারে।
তথ্যঃ আর্থ ডট কম

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code