খোশখবর ডেস্কঃ এতদিন সবচেয়ে বড় সামরিক সদর দফতর হিসেবে গোটা পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রথমে ছিল পেন্টাগনের নাম। এবার তাকে হারিয়ে এক নম্বর হয়ে গেল মিশরের ‘দ্য অক্টাগন’- এআই-চালিত সামরিক সদর দফতর। গত ৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সদর দফতর। এই তথ্য প্রকাশ করেছে ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া ডট কম।
কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে নির্মিত মিশরের নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে অবস্থিত এই ‘দ্য অক্টাগন’। এই বিশাল কমপ্লেক্সটি ১৩টি ভাগে বিভক্ত। এখানে এক ছাতার নিচে পরিচালিত হবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কমান্ড, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম, সাইবার নিরাপত্তা, জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, আন্তঃসংস্থা সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
বলা হচ্ছে মিশরের ‘দ্য অক্টাগন’ যা পেন্টাগনের চেয়েও বড় এআই-চালিত মুখ্য সামরিক কেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে নতুন অধ্যায়। প্রযুক্তিতে সজ্জিত এই বিশাল কমপ্লেক্সকে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অবকাঠামোর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দ্য অক্টাগন - এর মোট আয়তন প্রায় ৪.৭ মিলিয়ন বর্গমিটার, যা প্রায় ২২,০০০ একর বা ৮৯ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে কাজ করবে এআই-নির্ভর C4ISR (Command, Control, Communications, Computers, Intelligence, Surveillance and Reconnaissance) প্রযুক্তি।
তুলনায় পেন্টাগন এর মোট ফ্লোর স্পেস প্রায় ৬ লাখ বর্গমিটার, যার মধ্যে প্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার বর্গমিটার অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পেন্টাগনের পাঁচটি বাহু রয়েছে এবং এটি মাটির ওপরে পাঁচটি তলা, নিচে দুটি বেসমেন্ট স্তর নিয়ে নির্মিত। প্রতিটি তলায় রয়েছে পাঁচটি বৃত্তাকার করিডর, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭.৫ মাইল বা ২৮.২ কিলোমিটার। কেন্দ্রে রয়েছে ৫ একর (প্রায় ২ হেক্টর) আয়তনের একটি পঞ্চভুজাকৃতির খোলা প্রাঙ্গণ।
দ্য অক্টাগন-এর স্থাপত্যও বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। অষ্টভুজ আকৃতির এই কমপ্লেক্সে আটটি প্রধান বিল্ডিং রয়েছে, যা বিভিন্ন সামরিক শাখার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এগুলোর কেন্দ্রে রয়েছে দুটি প্রধান কমান্ড বিল্ডিং, যা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের মাধ্যমে সংযুক্ত।
তথ্যঃ ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া ডট কম
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ