একনজরে

10/recent/ticker-posts

World Population পৃথিবীতে আঁটবে তো! কেন বেড়েই চলেছে পৃথিবীর জনসংখ্যা?



খোশখবর ডেস্কঃ দিনটা ছিল ১১ জুলাই ১৯৮৭, সেইদিনই প্রথম বিশ্ব জনসংখ্যা ৫০০ কোটিতে পৌঁছাল। বলা চলে যেন পৃথিবীর ক্রমেই বেড়ে চলা জনসংখ্যা নিয়ে মানুষ মানুষের টনক নড়ে গেল। দিনটি ‘ফাইভ বিলিয়ন ডে’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ঠিক এর ২ বছর পর ১৯৮৯ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) সচেতনতার লক্ষ্যে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস (World Population Day) প্রতি বছর ১১ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো জনসংখ্যা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়গুলো সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।



জনসংখ্যা বৃদ্ধি, উল্লেখযোগ্য মাইলফলক

আসলে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে পরিবার পরিকল্পনা, লিঙ্গসমতা, দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারসহ জনসংখ্যা-সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে আনা হয়। হিসেব বলছে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় প্রতি ১৪ মাসে ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য মাইলফলকগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১১ জুলাই ১৯৮৭ : বিশ্ব জনসংখ্যা ৫০০ কোটিতে পৌঁছায়।

২০১১ সালে : জনসংখ্যা ৭০০ কোটির ঘর অতিক্রম করে।

১৫ নভেম্বর ২০২২ : বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটি (৮ বিলিয়ন) ছাড়িয়ে যায়।



বিশ্ব জনসংখ্যার চমকে দেওয়া গতি

পৃথিবীর জনসংখ্যা কিন্তু প্রথম থেকেই এমন দ্রুতগতির ছিল না। হিসেব বলছে পৃথিবীর জনসংখ্যা ১০০ কোটিতে পৌঁছাতে মানবসভ্যতার লক্ষ লক্ষ বছর সময় লেগেছিল। কিন্তু এরপর মাত্র প্রায় ২০০ বছরের মধ্যেই জনসংখ্যা সাত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর জনসংখ্যা ৮০০ কোটি (৮ বিলিয়ন) অতিক্রম করে যায়। এরপর প্রতি বছর প্রায় ৭–৮ কোটি মানুষ যুক্ত হওয়ায় ২০২৬ সালে জনসংখ্যা আনুমানিক ৮.২ থেকে ৮.৩ বিলিয়নের মধ্যে পৌঁছেছে।



বিশ্বের জনসংখ্যা – যেভাবে এগিয়েছে


১৮০৪ — ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)

১৯২৭ — ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন)

১৯৬০ — ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন)

১৯৭৪ — ৪০০ কোটি (৪ বিলিয়ন)

১৯৮৭ — ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন)

১৯৯৯ — ৬০০ কোটি (৬ বিলিয়ন)

২০১১ — ৭০০ কোটি (৭ বিলিয়ন)

১৫ নভেম্বর ২০২২ — ৮০০ কোটি (৮ বিলিয়ন)

গুগলে আরও খোশখবর



জনসংখ্যা বাড়ছে কোন দেশে? কমছে কোথায়?

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হলো ভারত। হিসেব মত এরপর রয়েছে চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তান। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এখন আগের তুলনায় ধীরগতির হলেও, মানুষের আয়ু বেড়ে যাওয়া, নগরায়ণ এবং অভিবাসনের কারণে বৈশ্বিক জনসংখ্যার কাঠামো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে সব দেশেই যে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে তা কিন্তু নয়। অনেক উন্নত দেশ—যেমন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি এবং জার্মানি— কম জন্মহার, জনসংখ্যা হ্রাস ও শ্রমিক সংকটের মুখোমুখি। তুলনায় অনেক উন্নয়নশীল দেশে এখনও জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

তথ্য বলছে পৃথিবীতে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো মানুষের আয়ু বৃদ্ধি। মানুষের গড় আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে গড় আয়ু ছিল ৬৪.৬ বছর, যা ২০১৯ সালে বেড়ে হয়েছে ৭২.৬ বছর।



মানুষের মাথা গোনার (আদমশুমারির) দরকার কী?

এর কারণ হল বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা স্থায়ী ভাবে পূরণ করতে হলে নীতিনির্ধারকদের জানতে হবে—পৃথিবীতে কত মানুষ, কোথায়, কীভাবে বসবাস করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব। জনসংখ্যা বৃদ্ধি সবসময় বিপদের কারণ নয়। এটি নির্ভর করে একটি দেশের সম্পদ, অর্থনীতি, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুশাসনের ওপর।

অনিয়ন্ত্রিত বা অত্যন্ত দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যেমন শহরে অতিরিক্ত মানুষের চাপ তৈরি হয়। এর ফলে যানজট, বস্তির বিস্তার, আবাসন সংকট এবং বর্জ্য নিকাশির সমস্যা বাড়ে। ২০০৭ সাল ছিল ইতিহাসের প্রথম বছর, যখন বিশ্বের গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। রাষ্ট্রসঙ্ঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে বসবাস করবে।




ভারতের জনসংখ্যা সম্পদ না বিপদ?

ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। ভারতের জনসংখ্যা একদিকে সম্পদ, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জও। দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ কর্মক্ষম (১৫–৬৪ বছর) বয়সের, যা অর্থনৈতিক বৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি – যা ভারতকে ক্রমেই একেবারে প্রথমসারির অর্থনীতির দিকে নিয়ে চলেছে।

পাশাপাশি বিপুল মানুষের দেশ হওয়ায় ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, শিল্প এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদি এই ক্ষেত্রগুলিতে যথাযথ বিনিয়োগ ও নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাহলে ভারতের বিশাল জনসংখ্যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ হিসেবে কাজ করতে পারে।


কোথায় পৌঁছাবে বিশ্বের জনসংখ্যা?

আগে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ২০২২ সালের পূর্বাভাসে ২১০০ সালে বিশ্ব জনসংখ্যা ১০৯০ কোটি (১০.৯ বিলিয়ন) হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের সংশোধিত পূর্বাভাসে জন্মহার দ্রুত কমার কারণে সেই অনুমান কমিয়ে প্রায় ১০২০ কোটি (১০.২ বিলিয়ন) করা হয়েছে।

২০২১ সালে বিশ্ব জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭৯০ কোটি।

২০৩০ সালে তা বেড়ে প্রায় ৮৫০ কোটি হবে।

২০৫০ সালে পৌঁছাবে প্রায় ৯৭০ কোটি।

২১০০ সালে বিশ্ব জনসংখ্যা প্রায় প্রায় ১০২০ কোটি (১০.২ বিলিয়ন) হতে পারে।

তথ্যঃ উইকিপিডিয়া/ ইউ এন সাইট 

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code