খোশখবর ডেস্কঃ ফের এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে পৃথিবীর মানুষ। হতে চলছে মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক ঘটনা সূর্যগ্রহণ। মহাকাশে বা আমাদের সৌরজগতে গ্রহণের ঘটনা নতুন নয়। তবে ১২ আগস্ট ২০২৬-এ উত্তর গোলার্ধের আকাশে যা ঘটতে চলেছে তা হল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রকৃতির এই বিস্ময়কর দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ পেলেও অধিকাংশ মানুষই তা পাবেন না। নাসার দেওয়া তথ্য অনুসারে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সংকীর্ণ অঞ্চলে দেখা যাবে, আর তার বাইরের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা মিলবে আংশিক সূর্যগ্রহণের।
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ আসলে কী?
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ বা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তখনই ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যকে পুরোটা ঢেকে দেয়। তখন দিনের আকাশ হঠাৎ সন্ধ্যের মতো অন্ধকার হয়ে যায়, তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে এবং অনেক সময় দিনের বেলাতেই উজ্জ্বল নক্ষত্র বা গ্রহ দেখা যেতে পারে। নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা (Corona) খালি চোখে দেখা যায়, যা সাধারণ সময়ে সূর্যের তীব্র আলোর কারণে দৃশ্যমান হয় না।
গুগলে আরও খোশখবর
কোথায় কোথায় দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ?
১২ আগস্টের পূর্ণ সূর্যগ্রহণের ছায়াপথটি যে যে এলাকা দিয়ে অতিক্রম করবে সেখানেই দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। এই তালিকায় রয়েছে গ্রিনল্যান্ড,আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর, স্পেন, পর্তুগালের একটি ছোট অংশ। পূর্ণ সূর্যগ্রহণের 'পাথ অব টোটালিটি' বা পূর্ণ গ্রহণের ছায়ার পথ শুরু হবে উত্তর মেরু মহাসাগর থেকে। এরপর এটি বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে সবশেষে পথ শেষ হবে ভূমধ্যসাগরের (Mediterranean Sea) উপর। অর্থাৎ যাঁরা এই নির্দিষ্ট পথের মধ্যে থাকবেন, তাঁরাই দেখতে পাবেন টোটালিটি বা পূর্ণ সূর্যগ্রহণ —অর্থাৎ সেই মুহূর্ত, যখন চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যকে ঢেকে দেবে।
আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে কোথায়?
এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এলাকার বাইরে উত্তর গোলার্ধের আরও বহু অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর আমেরিকার কিছু অংশ (আলাস্কা থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত), কানাডার অধিকাংশ এলাকা, ইউরোপের বড় অংশ এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা। আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলি ও ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চল থেকে।
ভারতে কী ১২ আগস্টের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে?
নাসার হিসেব অনুযায়ী ১২ আগস্ট ২০২৬ -এর এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না। ভারতীয় সময় অনুযায়ী গ্রহণটি ঘটবে রাতের বেলায়, যখন সূর্য ভারতের দিগন্তের নিচে থাকবে। ফলে দেশের কোনো স্থান থেকেই এই সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হবে না। ভারতীয় সময় অনুযায়ী গ্রহণ শুরু হবে আনুমানিক ১২ আগস্ট রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৩ আগস্ট রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে।
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার নিয়ম
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ প্রকৃতির অন্যতম বিরল ও বিস্ময়কর দৃশ্য হলেও এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সুরক্ষা ছাড়া সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই নাসার নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এই মহাজাগতিক ঘটনা দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্পেস ডট কম তাদের ওয়েবসাইটে জানাচ্ছে আংশিক গ্রহণ চলাকালীন অবশ্যই ISO 12312-2 মানসম্পন্ন সোলার ইক্লিপস চশমা ব্যবহার করতে হবে। টেলিস্কোপ, বা ক্যামেরায় বিশেষ সোলার ফিল্টার লাগানো থাকা দরকার। শুধুমাত্র পূর্ণ গ্রহণের অল্প সময়ের জন্য, যখন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে রাখবে, তখনই নিরাপদে খালি চোখে করোনা দেখা যেতে পারে। সূর্যের আলো আবার দেখা দিতেই সোলার চশমা পরে নিতে হবে।
নাসার হিসেব অনুযায়ী ১২ আগস্ট ২০২৬ -এর এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না। ভারতীয় সময় অনুযায়ী গ্রহণটি ঘটবে রাতের বেলায়, যখন সূর্য ভারতের দিগন্তের নিচে থাকবে। ফলে দেশের কোনো স্থান থেকেই এই সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হবে না। ভারতীয় সময় অনুযায়ী গ্রহণ শুরু হবে আনুমানিক ১২ আগস্ট রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৩ আগস্ট রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে।
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার নিয়ম
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ প্রকৃতির অন্যতম বিরল ও বিস্ময়কর দৃশ্য হলেও এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সুরক্ষা ছাড়া সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই নাসার নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এই মহাজাগতিক ঘটনা দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্পেস ডট কম তাদের ওয়েবসাইটে জানাচ্ছে আংশিক গ্রহণ চলাকালীন অবশ্যই ISO 12312-2 মানসম্পন্ন সোলার ইক্লিপস চশমা ব্যবহার করতে হবে। টেলিস্কোপ, বা ক্যামেরায় বিশেষ সোলার ফিল্টার লাগানো থাকা দরকার। শুধুমাত্র পূর্ণ গ্রহণের অল্প সময়ের জন্য, যখন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে রাখবে, তখনই নিরাপদে খালি চোখে করোনা দেখা যেতে পারে। সূর্যের আলো আবার দেখা দিতেই সোলার চশমা পরে নিতে হবে।
গ্রহণের কুসংস্কার ছেড়ে…
বিভিন্ন দেশেই গ্রহণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা কুসংস্কার। তবে তা সরিয়ে রেখে সাধারণ মানুষকে সবসময়েই বিজ্ঞানমুখী হওয়ার আবেদন জানান বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যেই এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা উপলক্ষে স্পেন, আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডে জ্যোতির্বিজ্ঞানী, আলোকচিত্রী এবং শখের মহাকাশপ্রেমীদের ব্যাপক সমাগমের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ১২ আগস্ট ২০২৬-এর এই সূর্যগ্রহণ নিঃসন্দেহে বছরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


0 মন্তব্যসমূহ