একনজরে

10/recent/ticker-posts

125 years Centennial Bulb টানা ১২৫ বছর ধরে জ্বলছে যে বাতি, জানুন ‘সেন্টেনিয়াল বাল্ব’ -এর গল্প

 


খোশখবর ডেস্কঃ আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে আজকাল বদলেই গেছে বৈদ্যুতিক বাল্বের দুনিয়া। ফিলামেন্ট, সিএফএল-এর সময় পেরিয়ে এখন বাজারে হাজির এলইডি। কম বিদ্যুৎ খরচ, দীর্ঘ আয়ু এবং পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যের কারণে এলইডি আজ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই আলোকসজ্জার প্রধান প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে। বাজারে এখন বেশ কিছু কোম্পানির বাল্ব পাওয়া যায় যাতে বছর দুয়েকের স্থায়ীত্বের গ্যারান্টি দেওয়া হয়। কিন্তু অবাক করা তথ্য হল ক্যালিফোর্নিয়ার লিভারমোর শহরের একটি অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্রে এমন একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব রয়েছে, যা টানা ১২৫ বছর ধরে জ্বলছে। বলা হচ্ছে এটিই বিশ্বের প্রাচীনতম সচল বৈদ্যুতিক বাল্ব হিসেবে পরিচিত ‘সেন্টেনিয়াল বাল্ব’ (Centennial Bulb)। এই তথ্য দিয়েছে পপুলার সায়েন্স ডট কম।


‘সেন্টেনিয়াল বাল্ব’ আসলে কী?

সেন্টেনিয়াল বাল্ব হল ১৯০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেটে শেলবি ইলেকট্রিক কোম্পানির তৈরি করা বাল্ব। তখন বাল্বের মূল নীতি ছিল কাচের বায়ুরোধী আবরণের ভেতরে একটি পাতলা ধাতব ফিলামেন্টে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা যাতে সেটি উত্তপ্ত হয়ে আলো বিকিরণ করে। সে সময় বৈদ্যুতিক বাল্ব ছিল হাতে তৈরি বিলাসবহুল পণ্য। ইউকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে হাতে তৈরি এই বাল্বটি মূলত ১৮৯০-এর দশকের শেষের দিকে তৈরি করা হয়েছিল এবং ১৯০১ সালে লিভারমোর-প্লেজেন্টন ফায়ার ডিপার্টমেন্টকে দান করা হয়েছিল । এরপর থেকে এটি বেশ কয়েকবার স্থানান্তরিত হয়েছে এবং আজও ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।


বাল্ব, ফিলামেন্ট ও আলোর তত্ত্ব

বাল্ব তৈরির ক্ষেত্রে নির্মাতাদের সামনে সবসময় একটি সমীকরণ থাকে— বেশি উজ্জ্বল আলো, বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং দীর্ঘ আয়ু। এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই একসময় ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞান অনুযায়ী আলো যত উজ্জ্বল হবে, ফিলামেন্টের তাপমাত্রাও তত বেশি হতে হবে। কিন্তু তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিলামেন্টের ধাতব পরমাণুগুলো দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে। ফলে বাল্বের আয়ু কমে যায়।

তথ্য জানাচ্ছে ১৯২৫ সালে ফিলিপস, জেনারেল ইলেকট্রিক-সহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি বৈদ্যুতিক বাল্বের বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ‘ফিবাস কার্টেল’ জোট গঠন করে। তারা বাল্বের গড় আয়ু ১,০০০ ঘণ্টা ঠিক করে এবং দাম সহ নানা নীতি অনুসরণ করে। এই ঘটনাকেই অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও পণ্যের আয়ু সীমিত রাখার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। অভিযোগ যদি সেন্টেনিয়াল বাল্ব ১২৫ বছর ধরে জ্বলতে পারে, তবে আধুনিক বাল্বও অনেক বেশি স্থায়ী হতে পারে।


কীভাবে ১২৫ বছর জ্বলছে ‘সেন্টেনিয়াল বাল্ব’ ?


‘সেন্টেনিয়াল বাল্ব’ –এর দীর্ঘ জীবন নিয়ে বিশ্বজুড়ে চর্চা কম হয় নি। তথ্য অনুযায়ী বাল্বটি হাতে তৈরি করা হয়েছিল। উচ্চ মানের পিতল এবং কাচের উপাদানের সঙ্গে কার্বন ফিলামেন্ট ব্যবহার করা হয় যা আসলে বেশিরভাগ আধুনিক বাল্বে ব্যবহৃত টাংস্টেন ফিলামেন্টের চেয়ে বেশি পুরু এবং শক্তিশালী। ইলেকট্রনিক্স বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শেলবি ইলেকট্রিক কোম্পানির কারিগররা হয়তো ভুলবশত এমন একটি ফিলামেন্ট তৈরি করেছিলেন যার বৈদ্যুতিক প্রতিরোধ (Resistance) অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। ফলে ফিলামেন্টটি খুব কম তাপে জ্বলেছে এবং দীর্ঘ সময় টিকে গেছে। সম্ভবত এটি রাতের ক্ষীণ আলোর ( নাইট বাল্ব) জন্য বিক্রি করা হয়েছিল।



কম আলোই কী দীর্ঘ আয়ুর জন্য দায়ী?

অনেকে বলেন সেন্টেনিয়াল বাল্বের আয়ু এত বেশি হওয়ার মূল কারণই হলো এর অত্যন্ত কম উজ্জ্বলতা বা টিম টিম করে জ্বলা। সেন্টেনিয়াল বাল্ব দেখতে ৬০ ওয়াটের মতো হলেও বাস্তবে এটি মাত্র ৪ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তাছাড়া এর আলো এতটাই ক্ষীণ যে সাধারণ ৪ ওয়াটের বাল্বের তুলনায়ও অনেক কম উজ্জ্বল।এর ক্ষীণ আলো প্রায় একটি সাধারণ নাইট লাইটের শক্তির সমান । অর্থাৎ পৃথিবীর সমস্ত বাল্ব যদি এভাবে ক্ষীণ আলোর মত তৈরি করা হতো, তবে সেগুলো হয়তো বহু বছর টিকত। কিন্তু এত কম আলো সাধারণ মানুষই ব্যবহার করতে চায় না।


সেন্টেনিয়াল বাল্ব ও নানা রেকর্ড

সেন্টেনিয়াল বাল্ব হল সেই আলো যা বিশ্বে সবচেয়ে পুরানো সচল বাতির মর্যাদা পেয়েছে।এখনও এটি ক্যালিফোর্নিয়ার লিভারমোরের ৪৫৫০ ইস্ট অ্যাভিনিউতে রাখা আছে এবং জনসাধারণের দেখার জন্য উন্মুক্ত। ইতিমধ্যে বাল্বটি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস, রিপলিস বিলিভ ইট অর নট –এ স্থান পেয়েছে।একে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বখ্যাত সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিকও। পৃথিবী জুড়েই এই আলো নিয়ে নানা টিভি শো,সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। এই বাল্বের ইতিহাস নিয়ে অন্তত চারটি বই লেখা হয়েছে এবং এর নিজস্ব ওয়েবসাইটও রয়েছে।

তথ্যঃ পপুলার সায়েন্স ডট কম, ইউকিপিডিয়া

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code