একনজরে

10/recent/ticker-posts

Nuclear Weapon to Save Earth বিজ্ঞানীদের আশ্চর্য পরিকল্পনা, পরমাণু অস্ত্রই কী বাঁচাবে পৃথিবীকে?

  

খোশখবর ডেস্কঃ পৃথিবীর নতুন বিপদের নাম বিপজ্জনক গ্রহাণু। আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে বিশাল গ্রহাণুর আঘাতেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হতে হয়েছিল ডাইনোসরদের – এমনটাই ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীদের। মহাবিশ্বের খামখেয়ালে গ্রহাণুর আঘাত থেকে এখনও মুক্ত নয় পৃথিবী। ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার উরাল অঞ্চলের চেলিয়াবিনস্ক শহরের আকাশে বিস্ফোরণ ঘটেছিল মহাশূন্য থেকে ধেয়ে আসা একটি গ্রহাণুর। ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল নাইজেরিয়ার ওয়োতে আছড়ে পড়ে ‘আবা পানু’ নামের একটি পাথুরে উল্কাপিণ্ড।



বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন মহাকাশ মোটেও কোনও নিরাপদ জায়গা নয়। আমাদের সৌরজগতের চারপাশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা ছোট বড় গ্রহাণু। ফুটবল মাঠের কাছাকাছি আকারের একটি গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে একটি শহর ধ্বংস করার মতো ভয়াবহ ক্ষতি করতে পারে।


পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা বিপজ্জনক গ্রহাণুর গতিপথ বদলাতে ডাবল অ্যাসট্রয়েড রিডিরেকশন টেস্ট বা ডার্ট প্রয়োগ করে নাসা। ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এই ডার্ট অভিযানে দিমরফোস (Dimorphos) নামের গ্রহাণুকে সজোরে আঘাত করে কক্ষপথ বদলে দিয়েছিল মার্কিন মহাকাশ সংস্থা।



কিন্তু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা কোনও বিশাল গ্রহাণুকে থামাতে কি মানুষের তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব? কয়েক দশক ধরেই এই প্রশ্নই বিজ্ঞানীদের মধ্যে ঘূরপাক খাচ্ছে। এবার শক্তিশালী কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনাই আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা সেরে ফেললেন গবেষকরা। আমেরিকার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি-র জ্যোতির্পদার্থবিদ ইশাইয়া স্যান্টিস্টিভানের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল ল্যাবরেটরিতেই এই পরীক্ষা করে ফেলেছেন। তাঁদের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে The Planetary Science Journal-এ। এই তথ্য প্রকাশ করেছে এনডিটিভি ডট কম।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন কিছু গ্রহাণু এতটাই অন্ধকার যে তারা খুব কম আলো প্রতিফলিত করে। ফলে সেগুলি দেরিতে শনাক্ত হলে পৃথিবীকে বাঁচাতে ডার্ট পদ্ধতিতে প্রতিরোধের সময় নাও মিলতে পারে। তখন পারমাণবিক বিস্ফোরণ শেষ অবলম্বন হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।


 গবেষকরা মনে করছেন পারমাণবিক অস্ত্রকে সরাসরি গ্রহাণুর গায়ে নয় কয়েক মিটার দূরেও বিস্ফোরণ ঘটানো যেতে পারে। বিস্ফোরণ থেকে উৎপন্ন বিপুল শক্তি গ্রহাণুর গতি ও গতিপথ বদলে দেওয়ার পাশাপাশি সেটিকে ফাটিয়ে বা ভেঙে দিতে পারে। তবে অনেক পথ হাঁটা বাকি। পৃথিবীকে বাঁচানোর প্ল্যানের সবটাই এখনও আছে ল্যবরেটরির অতি উন্নত কম্পিউটারের জটিল থ্রিডি সিমুলেশনে।


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code