মানুষের অনেক কাছের প্রাণী কুকুর
দীর্ঘ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে কুকুরই মানুষের গৃহে পালিত হওয়া প্রথম প্রাণী। কুকুরের সঙ্গে মানুষের সখ্য কয়েক হাজার বছরের। এই দীর্ঘ সহাবস্থানের কারণে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে এই জীবকুলের মধ্যে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটেছে। পাশাপাশি মানুষ যখন কোনো দিকে আঙুল দিয়ে নির্দেশ করে, কুকুর সাধারণত সেই ইশারা বুঝতে পারে এবং সেই দিকে তাকায়। প্রাণিজগতে খুব কম প্রাণীর মধ্যেই এই ক্ষমতা দেখা যায়।
মানুষের মুখের অভিব্যক্তি বুঝতে পারে কুকুর
সম্প্রতি আই সায়েন্স(iScience) জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা ফলাফলে দেখা গিয়েছে, মানুষের মুখে আনন্দের অভিব্যক্তি শনাক্ত করতে পারে কুকুর। শুধু তাই নয়, গবেষণায় এমন প্রমাণও মিলেছে যে কুকুর মানুষের মুখের নেতিবাচক অভিব্যক্তিগুলির মধ্যেও পার্থক্য করতে সক্ষম। এই তথ্য প্রকাশ করেছে সায়েন্স ফোকাস ডট কম। নতুন গবেষণা জানাচ্ছে কুকুরের মস্তিষ্ক শুধু আবেগকে ‘ভালো’ এবং ‘খারাপ’—এই দুই ভাগে ভাগ করে না। বরং রাগ, দুঃখ এবং ভয়ের মতো ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
গুগলে আরও খোশখবর( KHOSHKHOBOR)
কেমন করে করা হল গবেষণা?
প্রথম পর্যায়ে গবেষণায় অংশ নেওয়া আটটি কুকুরকে অপরিচিত মানুষের হাসিমুখের ছবি দেখিয়ে মস্তিষ্ক স্ক্যান করা হয়। দেখা যায়, কুকুরগুলির মস্তিষ্কের টেম্পোরাল কর্টেক্স এবং কডেট নিউক্লিয়াস সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এরপর গবেষকরা ১২টি কুকুরকে মানুষের বিভিন্ন আবেগপূর্ণ মুখের ছবি দেখান। ছবিগুলির মধ্যে ছিল আনন্দ, রাগ, ভয় এবং দুঃখের অভিব্যক্তি। দেখা যায়, টেম্পোরাল কর্টেক্স ও কডেট নিউক্লিয়াসের মধ্যে থাকা বিশেষ স্নায়বিক নেটওয়ার্কটি শুধুমাত্র আনন্দময় মুখ দেখলে সক্রিয় হয়। এরপর আরও বিস্তৃতভাবে গোটা মস্তিষ্কের কাজ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বোঝেন যে কুকুর রাগ, দুঃখ এবং ভয়ের মুখের অভিব্যক্তির মধ্যেও পার্থক্য করতে পারে।
কাজেই এই গবেষণা মানুষের অনুভূতি যে আমাদের চারপেয়ে প্রিয় বন্ধুরা এতটা গভীরভাবে বুঝতে পারে তার একটা দিক খুলে দিল। এর ফলাফল কুকুরের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ, যত্ন নেওয়া ইত্যাদি ভাবনার উপলব্ধিই আলাদা হয়ে যেতে পারে।
তথ্য সূত্রঃ সায়েন্স ফোকাস ডট কম ও অনান্য সাইট
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


0 মন্তব্যসমূহ