খোশখবর ডেস্কঃ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম বন্য সাপ হল ‘ইবু ব্যারন’ নামের এক রেটিকুলেটেড অজগর। সাম্প্রতি এই সাপ পাওয়া গেছে ইন্দোনেশিয়ায়।এই অজগর ৭.২২ মিটার বা ২৩ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা। আনাকোন্ডা, পাইথন বলতেই সাধারণত বড় বড় সাপকে বোঝানো হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাপের মধ্যেই গণ্য করা হয় এদের প্রজাতিকে। এই সব সাপের ঠিকানা মূলত দক্ষিণ আমেরিকা, আমাজন, ইন্দোনেশিয়া হলেও জানা গেছে একসময় পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ সাপের ঠিকানা ছিল এই ভারতই।
গুগলে আরও খোশখবর
২০২৪ সালে প্যালিয়োন্টোলজিস্টদের যুগান্তকারী সাফল্যে এক প্রাগৈতিহাসিক সাপের নতুন প্রজাতি বাসুকি ইন্ডিকাস (Vasuki indicus) এর জীবাশ্মের খোঁজ মিলেছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই বিশাল সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ মিটার বা ৪৯ ফুট পর্যন্ত হত। বিজ্ঞানীদের কাছে এটি পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ সাপ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তাদের ওয়েবসাইটে এই তথ্য দিয়েছে। এই সাপের জীবাশ্ম প্রথম ২০০৪ সালে গুজরাটে উদ্ধার করা হলেও দীর্ঘ গবেষণার পর ২০২৪ সালেই একে নতুন গণ (genus) ও প্রজাতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়।
হিন্দু পুরাণের পৌরাণিক নাগরাজ বাসুকির নামানুসারেই এই সাপের নাম রাখা হয়েছে Vasuki indicus। বৃহৎ আকারের এই সাপ বিলুপ্ত Madtsoiidae পরিবারভুক্ত এবং ছিল বিষহীন। তবে শিকারকে পেঁচিয়ে ধরার ক্ষমতা ছিল এদের। প্রায় ৪৭ মিলিয়ন বছর আগে বর্তমান ভারতের ভূখণ্ডে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে, সম্ভবত জলাশয়ের আশপাশে বিচরণ করত।
পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সাপ বলা হয় টাইটানোবোয়া (Titanoboa)কে, যা প্রায় ৪২-৪৭ ফুট লম্বা হত। আমেরিকায় প্রায় ৬০ মিলিয়ন বছর আগে বাস করত টাইটানোবোয়া। তবে Vasuki indicus তার থেকেও বড় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেচার ইন্ডিয়ার তথ্য জানাচ্ছে যে Vasuki indicus সম্ভবত ধীরগতির শিকারি ছিল। আধুনিক বোয়া বা পাইথনের মতোই এটি শিকারকে শরীর পেঁচিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করত বলে মনে করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, উষ্ণ ভারতীয় উপমহাদেশে এই প্রজাতির বিবর্তন ঘটে এবং পরে ইউরোপ হয়ে আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে (প্রায় ৫৬ থেকে ৩৪ মিলিয়ন বছর আগে)।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]
.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ