খোশখবর ডেস্কঃ একুশ শতকে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এক অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয়তার কথা বুঝতে পেরে ২০৪৭ সালের উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে AI-কে সামিল করেছে ভারত। এর জেরেই ভারতের অর্থনীতি এক নতুন রূপান্তরের সন্ধিক্ষণের সাক্ষী হতে চলেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের মোট জিডিপিতে AI প্রায় ৬ শতাংশ অবদান রাখতে পারে। এই রূপান্তরের মধ্য দিয়ে ভারতের অর্থনীতিতে ৬০৭.৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নতুন মূল্য সংযোজন সম্ভব, যা জাতীয় উৎপাদনশীলতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এই তথ্য দিয়েছে ভিজুয়াল ক্যাপিটালিস্ট ডট কম।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০৩৫ সাল নাগাদ ভারতের অর্থনীতিতে ৫৫০.২ থেকে ৬০৭.৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থনৈতিক মূল্য যোগ করার সক্ষমতা রাখে এই প্রযুক্তি। এটি কোনও নিছক তাত্ত্বিক সম্ভাবনা নয়, বরং জাতীয় সমৃদ্ধির এক বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ। এই বিপুল অংকের বৃদ্ধি কেবল বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নয়, বরং দেশের প্রান্তিক স্তর পর্যন্ত অর্থনৈতিক সুফল পৌঁছে দেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ।
বলা হচ্ছে AI হল বর্তমান যুগের উৎপাদনশীলতার এক নবতর বিপ্লব; এটি প্রথাগত শ্রম ও মেধার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে জাতীয় অর্থনীতিকে একটি উচ্চ-বৃদ্ধির চক্রে সামিল করানোর অনন্য অনুঘটক।
যদিও ভারতের অর্থনীতির প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে উৎপাদন (Manufacturing) এবং কৃষি (Agriculture) ক্ষেত্রে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে AI-এর মাধ্যমে করা মোট অর্থনৈতিক লাভের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসবে এই দুটি ক্ষেত্র থেকে।
উৎপাদন ক্ষেত্রে AI-এর মাধ্যমে অর্জিত সম্ভাব্য লাভের পরিমাণ প্রায় ২৫৯.১ বিলিয়ন ডলার। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী কৃষির ওপর নির্ভরশীল।স্মার্ট সেচ ব্যবস্থা, ড্রোন ও সেন্সরের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ফসল পর্যবেক্ষণ এবং নিখুঁত আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষকদের বিপদ কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সেখানে যোগ হবে ১৫৩.৯ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে AI-এর প্রভাব কেবল ভারী শিল্প বা রোবোটিক কারখানাতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আমাদের প্রতিদিনের সাধারণ কাজের মধ্যে এক 'অদৃশ্য বিপ্লব' ঘটাচ্ছে। ছোট মনে হলেও এই পরিবর্তনগুলোর সমষ্টিগত প্রভাব বিশাল।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি ক্ষেত্রের প্রতিটি স্তরে AI-এর ব্যবহার সেবার মান ও নির্ভুলতাকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যাবে। যেমন জ্বালানি ও ইউটিলিটি ক্ষেত্রে দক্ষ বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যবস্থা এবং চাহিদার নির্ভুল পূর্বাভাসের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে ৭৬.৬ থেকে ৮৪.৬ বিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন সম্ভব।
শিক্ষা ক্ষেত্রে রুটিনমাফিক প্রশাসনিক কাজের চাপ কমিয়ে শিক্ষকদের পাঠদান ও গবেষণায় অধিক সময় দেওয়ার সুযোগ করে দেবে AI। এখানে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব ৭০.২ থেকে ৭৭.৬ বিলিয়ন ডলার।
নির্ভুল ও দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং উন্নত টেলি-মেডিসিন পরিষেবার মাধ্যমে মানুষের গড় আয়ু ও কর্মক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ২৯.১ থেকে ৩২.১ বিলিয়ন ডলার।
তথ্যঃভিজুয়াল ক্যাপিটালিস্ট ডট কম
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ