একনজরে

10/recent/ticker-posts

AI, clocks and human ‘ঘড়ি’ নিয়ে বারবার ল্যাজেগোবরে হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! কেন জানেন?


খোশখবর ডেস্কঃ বড় বড় জটিল কাজ অনায়সে চোখের নিমেষে করে দিতে জুড়ি মেলা ভার AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। কিন্তু ঘড়ি দেখার মত নিতান্ত সাধারণ কাজ যা স্কুল লেভেলের শিক্ষার্থীরা করে দেয় অনায়াসে তা করতেই বারবার ভুল করে বসে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পপুলার সায়েন্স।

ঢুকে পড়ুন 'খোশখবর' এর ইউটিউব দুনিয়ায়  

ঘড়ি দেখা মানুষের কাছে খুবই সহজ একটি কাজ। ছোটবেলাতেই আমরা শিখে যাই অ্যানালগ ঘড়ি দেখে কীভাবে সময় বলতে হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীদের পরীক্ষা তুলে ধরেছে এক আশ্চর্যের বিষয়। যা হল অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এই সহজ কাজটিতেই বারবার ভুল করে বসছে।

গুগলে আরও খোশখবর  


সম্প্রতি ‘AI World Clocks’ নামে একটি পরীক্ষামূলক ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, বিশ্বের বড় বড় AI মডেলকে ঘড়ি তৈরি করতে বলা হলে তারা প্রায়ই ভুল ঘড়ি বানিয়ে ফেলছে। কোথাও সংখ্যাগুলো সঠিক জায়গায় নেই, কোথাও আবার ঘড়ির কাঁটা ঠিকমতো বসানোই হয়নি। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে কাঁটাগুলো ঘড়ির বাইরেও ভাসতে দেখা গেছে।

সময়কে পড়তে শেখা মানুষের কাছে খুবই স্বাভাবিক একটি দক্ষতা হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কম্পিউটার যখন তা করতে পারে না, তখন সেটি একই সঙ্গে মজার এবং চিন্তারও বিষয় বৈকি!

 'খোশখবর' এর ইউটিউব দুনিয়া  


২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে শুধু ঘড়ি বানানোই নয়, অ্যানালগ ঘড়ি দেখে সময় পড়ার ক্ষেত্রেও AI বেশ দুর্বল। মানুষ যেখানে প্রায় ৮৯ শতাংশ নির্ভুলভাবে ঘড়ির সময় বলতে পারে, সেখানে সেরা AI মডেলগুলোর নির্ভুলতা মাত্র প্রায় ৩৯ শতাংশ।

পপুলার সায়েন্সের তথ্য বলছে স্কটল্যান্ডের এডিনবরার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও একই ধরনের ফল মিলেছে। আসলে সময় বুঝতে গেলে একসঙ্গে তিনটি ক্ষমতা দরকার—সঠিকভাবে ছবি বিশ্লেষণ করা, সংখ্যাগত হিসাব করা এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণ করা। এই তিনটি দক্ষতা একসঙ্গে কাজে লাগাতে এখনও পুরোপুরি সক্ষম নয় বর্তমান AI ব্যবস্থা।

ঢুকে পড়ুন 'খোশখবর' এর ইউটিউব দুনিয়ায়  


আমরা সাধারণত ভাবি কম্পিউটার মানেই গণিতের যন্ত্র। কিন্তু আধুনিক AI মূলত pattern recognition-এর উপর কাজ করে। অর্থাৎ AI আসলে হিসাব না করে আগে দেখা প্যাটার্নের সঙ্গে মিলিয়ে অনুমান করে। ঘড়ির ক্ষেত্রে এর সমস্যা হয় কারণ— কাঁটার সঠিক কোণ হিসাব করতে হয়। মিনিট ও ঘণ্টার সম্পর্ক বুঝতে হয়। AI এগুলো গণনা না করে প্যাটার্ন দেখে আন্দাজ করার চেষ্টা করে, তাই ভুল হয়।

এখানে আরও একটি মজার ব্যাপার রয়েছে। ইন্টারনেটে ঘড়ির ছবির বড় অংশেই সময় সেট করা থাকে ১০টা ১০ মিনিটে। কারণ বিজ্ঞাপনে এই অবস্থায় ঘড়ির কাঁটা দেখতে সুন্দর লাগে এবং ব্র্যান্ডের লোগোও ঢেকে যায় না। ফলে AI যে বিপুল ডেটা থেকে শেখে, তার অনেক ছবিতেই সময় থাকে ১০টা ১০ মিনিট। তাই অনেক সময় AI-কে অন্য সময়ের ঘড়ি আঁকতে বললেও সে আবার ১০টা ১০ মিনিটই এঁকে ফেলে।

সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনও মানুষের মতো করে পৃথিবীকে বোঝে না। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের কাছে সহজ যে কাজ, সেটাই AI-এর কাছে হয়ে ওঠে বেশ কঠিন। 

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code