খোশখবর ডেস্কঃ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল এক আন্তর্জাতিক গবেষণা। ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব ( Climate Impact Lab)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ঝড় বা বন্যার থেকেও বেশি প্রাণহানির কারণ হতে পারে চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এই তথ্যকে কেন্দ্র করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এনডিটিভি ডট কম।
রিপোর্ট অনুযায়ী, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব সমান নয়। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মতো শীতপ্রধান অঞ্চলে শীত কমে যাওয়ায় তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুহার কিছুটা কমতে পারে। তবে উষ্ণ অঞ্চলগুলিতে পরিস্থিতি হবে একেবারেই উল্টো। উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে তাপজনিত মৃত্যুহার দ্রুত বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দরিদ্র দেশগুলিই সবচেয়ে বেশি বিপদে
গবেষণায় উঠে এসেছে, নিম্ন-আয়ের দেশগুলি এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, তাপ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা সেখানে সীমিত।
বলা হচ্ছে প্রতিবছর নিম্ন-আয়ের দেশগুলিতে প্রায় ৩ লক্ষ ৯১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে, যেখানে উন্নত দেশগুলিতে এই সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার। অর্থাৎ ঝুঁকি প্রায় ১০ গুণ বেশি।
আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৬০ জনের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। পাকিস্তানেও ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি ১ লক্ষে অতিরিক্ত ৫১ জনের মৃত্যু হতে পারে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে।
সংকট বাড়ছে শহরগুলিতেও
শুধু দেশ নয়, শহরগুলিও তাপমাত্রা বৃদ্ধির মারাত্মক প্রভাবের মুখে পড়বে। উন্নত শহর যেমন ফিনিক্স ও মাদ্রিদে প্রতিবছর কয়েকশো অতিরিক্ত মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দরিদ্র ও উষ্ণ শহরগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ শহরে বছরে প্রায় ৯,৪০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে শহরাঞ্চলে মোট এক লক্ষেরও বেশি মানুষ তাপজনিত কারণে প্রাণ হারাতে পারেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ।
একই দেশে ভিন্ন চিত্র
রিপোর্টে বলা হয়েছে, একই দেশের মধ্যেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলে মৃত্যুহার কমতে পারে, কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলে তা বাড়বে। বলিভিয়ার পাহাড়ি এলাকায় মৃত্যুহার কমলেও উষ্ণ নিম্নভূমিতে তা বৃদ্ধি পাবে।
গবেষকদের সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপজনিত মৃত্যুহার একটি অসম হুমকি, যা দরিদ্র ও উষ্ণ অঞ্চলের মানুষদের বেশি বিপদে ফেলবে। তাই এখনই পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ু অভিযোজনের উপর জোর দেওয়া জরুরি। গবেষকদের সতর্কবার্তা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তাপমাত্রাই হয়ে উঠতে পারে মানবজাতির সবচেয়ে বড় ঘাতক।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ