একনজরে

10/recent/ticker-posts

Hottest Decade On Record রেকর্ড উষ্ণতায় বিশ্ব, ২০১৫–২০২৫ সবচেয়ে গরম দশক, সতর্কবার্তা রাষ্ট্রসংঘের


খোশখবর ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়াল রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট।ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিকাল অর্গানিজশন বা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ( World Meteorological Organization)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালই পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ দশক। এই সময়ের মধ্যেই রেকর্ড হওয়া ১১টি উষ্ণতম বছর অন্তর্ভুক্ত।


রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব Antonio Guterres স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “বিশ্বের জলবায়ু এখন জরুরি অবস্থায়। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।” এনডিটিভিডট কম-এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পৃথিবীতে আটকে থাকা তাপের পরিমাণ সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। গত বছর গড় তাপমাত্রা ছিল শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১.৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি, যা এটিকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছরে পরিণত করেছে।

গ্রিনহাউস গ্যাসের বিপজ্জনক মাত্রা

WMO জানাচ্ছে, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব গত অন্তত ৮ লক্ষ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে পৃথিবীর শক্তির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে এবং ‘এনার্জি ইমব্যালান্স’ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

গুগলে আরও খোশখবর



মহাসাগরে জমছে অতিরিক্ত তাপ

WMO প্রধান Celeste Saulo জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশের বেশি মহাসাগরে সঞ্চিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে সমুদ্রের তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হ্রাস, বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি এবং ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধির মতো সমস্যা বাড়ছে।

বরফের গলন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি

অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বরফস্তর দ্রুত কমছে। ২০২৫ সালে আর্কটিক অঞ্চলের সমুদ্রবরফের পরিমাণ ছিল রেকর্ড সর্বনিম্নের কাছাকাছি। পাশাপাশি ১৯৯৩ সালের তুলনায় বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১১ সেন্টিমিটার বেড়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদের ইঙ্গিত।



এল নিনো–লা নিনার প্রভাব অব্যাহত

বিশ্ব আবহাওয়ায় বর্তমানে La Nina-র প্রভাব থাকলেও, ভবিষ্যতে El Nino ফিরে এলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ

WMO-র ডেপুটি প্রধান কো ব্যারেট পরিস্থিতিকে “ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, অ্যান্টোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানো না গেলে জলবায়ু সংকট আরও তীব্র হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব বহু শতাব্দী ধরে মানবসভ্যতার উপর গভীর ছাপ ফেলবে।

তথ্য সৌজন্যঃ এনডিটিভিডট কম

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code