একনজরে

10/recent/ticker-posts

Artemis II rocket blasts off আর্টেমিস II -এর উৎক্ষেপণ সফল, ফের চাঁদের পথে মানুষ


খোশখবর ডেস্কঃ ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই নীল আমস্ট্রং প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রাখেন। এরপর নাসার অ্যাপেলো মিশন-এর মাধ্যমে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে মোট ১২ জন মহাকাশচারী চাঁদের মাটিতে হাঁটার সুযোগ পান—যাঁদের বলা হয় ‘মুনওয়াকার’।


সেই ১৯৭২ সালের পর থেকে আর চাঁদে যায় নি মানুষ। এত দিন পর ফের মানব সভ্যতার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করল NASA-র আর্টেমিস II মিশন। দীর্ঘ ৫৩ বছরেরও বেশি সময় পর ফের মানুষ চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার Kennedy Space Center থেকে এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে লাইভসায়েন্স ডট কম।

১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম (EDT) বিশাল Space Launch System (SLS) রকেট চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করে। ভারতে তখন ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৪টে। এই মিশনে রয়েছেন কমান্ডার রিড উইজম্যান (Reid Wiseman), পাইলট ভিক্টর গ্লোভার ( Victor Glover), মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ (Christina Koch) এবং জেরেমি হ্যানসেন (Jeremy Hansen) রয়েছেন মহাকাশযানে। গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে প্রথম মানব অভিযান এটি।


পৃথিবীর মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে একে ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে মিশন বিলম্বিত হলেও উৎক্ষেপণের দিন কোনও বড় বাধা দেখা যায়নি। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে লক্ষাধিক মানুষ ফ্লোরিডার স্পেস কোস্টে ভিড় জমান। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ সরাসরি সম্প্রচার দেখেন।

এই মিশনে প্রায় ১০ দিনের এই মহাকাশযাত্রায় মহাকাশ যাত্রীরা চাঁদের অদেখা দূরবর্তী অংশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরবেন। আর্টেমিস II মিশন মানবজাতিকে আবার চাঁদের পথে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে—যা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জন্য এক বিশাল পদক্ষেপ।

এই মিশনে একাধিক ঐতিহাসিক নজির তৈরি হতে চলেছে। যেমন ক্রিস্টিনা কচ হতে চলেছেন প্রথম মহিলা, যিনি লো আর্থ অরবিটের বাইরে গিয়ে চাঁদের পরিবেশে পৌঁছাবেন। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী যিনি চাঁদের পথে যাচ্ছেন। জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন এবং রিড উইজম্যান সবচেয়ে বেশি বয়সী (৫০ বছর) মহাকাশচারী, যিনি এই যাত্রায় অংশ নিয়েছেন।

এই মিশন শুধু চাঁদের চারপাশে ভ্রমণ নয়—এটি ভবিষ্যতে চাঁদের মাটিতে মানুষের প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে, গভীর মহাকাশে গেলে মানুষের শরীরে কী প্রভাব পড়ে, তাও এই মিশনের মাধ্যমে বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। 

তথ্যঃ লাইভসায়েন্স ডট কম

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code