একনজরে

10/recent/ticker-posts

Large Asteroid Close To Earth পৃথিবীর দোরগোড়ায় বিশাল গ্রহাণু অ্যাপোফিস, বিপদ কতটা? জানুন কী হবে?


খোশখবর ডেস্কঃ ঘাড়ের কাছেই অতিকায় গ্রহাণু,‘গড অফ কেয়স’ ঘিরে রহস্য জারি! ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল,পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসবে বিশাল গ্রহাণু অ্যাপোফিস। যাকে বলা হচ্ছে ‘গড অফ কেয়স’ বা বিশৃঙ্খলার দেবতা। মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই দিনটি এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে খোদাই করা থাকবে।


কোনও কাল্পনিক সায়েন্স ফিকশন সিনেমার দৃশ্য নয়, বরং বাস্তব এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে আমাদের পৃথিবী। বিজ্ঞানীদের দেওয়া নাম ‘গড অফ কেয়স’ বা বিশৃঙ্খলার দেবতা হিসেবে পরিচিত বিশাল এক গ্রহাণু আমাদের খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে। এটি কেবল একটি সাধারণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, এই আকারের কোনও অ্যাসট্র্যয়েডস বা গ্রহাণুর পৃথিবীর এত কাছ দিয়ে যাওয়ার ঘটনা হাজার বছরে মাত্র একবার ঘটে। ওই বিশাল গ্রহাণু কী এসে আছড়ে পড়তে পারে আমাদের পৃথিবীতে? চলুন, বিজ্ঞানীর চোখে বিশ্লেষণ করি ওই আগন্তুককে।

গুগলে আরও খোশখবর 


‘গড অফ কেয়স’ বা বিশৃঙ্খলার দেবতা অ্যাপোফিস যখন পৃথিবীকে অতিক্রম করবে, তখন এর দূরত্ব হবে আমাদের গ্রহ থেকে মাত্র ২০,০০০ মাইল। মহাকাশের বিশালতার তুলনায় এই দূরত্ব কিছুই নয় – যাকে পৃথিবীকে ‘স্পর্শ করে যাওয়া’ বললেও ভুল হবে না। এটি পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার গড় দূরত্বের চেয়ে প্রায় ১২ গুণ কম। চমকপ্রদ তথ্য হলো, আমাদের মাথার উপরে থাকা জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটগুলো যে কক্ষপথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, অ্যাপোফিস তার চেয়েও নিচ দিয়ে যাবে। এই অস্বাভাবিক কাছে আসা বিজ্ঞানীদের শিহরিত করছে, কারণ এর আগে এত বড় কোনো মহাজাগতিক প্রস্তরখণ্ড বা গ্রহাণু এত কাছ দিয়ে যায় নি।


অ্যাপোফিস কেবল একটি বিশাল পাথর খণ্ড নয়, বলা হয় এটি সৌরজগতের ইতিহাসের এক আদিম ‘টাইম ক্যাপসুল’। প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে যখন আমাদের সৌরজগত গঠিত হচ্ছিল, তখন যে অপরিশোধিত উপাদানগুলো গ্রহ বা উপগ্রহে রূপ নিতে পারেনি, অ্যাপোফিস সেই আদিম ধ্বংসাবশেষ দিয়েই তৈরি। গড় ব্যাস প্রায় ১,১১৫ ফুট এবং সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য অন্তত ১,৪৮০ ফুট—এই দানবীয় আকার তাকে গবেষণার এক অনন্য বস্তুতে পরিণত করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তা বিশ্লেষণ করলে সৌরজগতের আদিম রহস্য উন্মোচিত হবে।

২০০৪ সালে যখন অ্যাপোফিস প্রথম আবিষ্কৃত হয়, তখন বিজ্ঞানীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রাথমিক হিসেবে মনে করা হয়েছিল যে, ২০২৯, ২০৩৬ বা ২০৬৮ সালে এটি পৃথিবীর বুকে আঘাত হেনে প্রলয় ঘটাতে পারে। তবে গত কয়েক দশকের গভীর পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে নাসা (NASA) এখন আশ্বস্ত করেছে যে অন্তত আগামী ১০০ বছর অ্যাপোফিসের সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষের কোনো সম্ভাবনা নেই।


২০২৯ সালের সেই ঐতিহাসিক ক্ষণে অ্যাপোফিস কেবল আমাদের পাশ দিয়ে চলেই যাবে না, বরং পৃথিবীর সঙ্গে তার একটি মহাকর্ষীয় মিথস্ক্রিয়া ঘটবে। নাসার তথ্যমতে, আমাদের গ্রহের শক্তিশালী মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অ্যাপোফিসের কক্ষপথকে টানবে। এর ফলে গ্রহাণুটির বর্তমান কক্ষপথ কিছুটা বড় হয়ে যেতে পারে এবং এর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময়কালও বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আনন্দের বিষয় হলো, পৃথিবীর টানে এই কক্ষপথ পরিবর্তন হলেও তা ভবিষ্যতে পৃথিবীর জন্য নতুন কোনো বিপদের কারণ হবে না—এমনটাই নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


ফলে আর মাত্র বছর তিনেক পর ২০২৯ সালে আসতে চলেছে এই ক্ষণ। আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের নিশ্চিত করেছে যে বিশৃঙ্খলার এই দেবতা আমাদের জন্য কোনো প্রলয় বয়ে আনবে না।রাতে এটি এতটাই উজ্জ্বল হয়ে উঠবে যে দূরবীন ছাড়াই দেখা যাবে এই মহাজাগতিক দানবকে। প্রাথমিক সেই ভয় এখন বৈজ্ঞানিক কৌতূহলে রূপ নিয়েছে।

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code