একনজরে

10/recent/ticker-posts

What is tsunami ? জাপানে ফের ২০১১-এর ভয়াবহ স্মৃতি! জানুন ঠিক কাকে বলে সুনামি?


খোশখবর ডেস্কঃ উত্তর জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরে আছড়ে পড়েছে সুনামির ঢেউ। Japan Meteorological Agency (JMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরের জলে, Iwate Prefecture-এর উপকূলের কাছে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, শত শত কিলোমিটার দূরে Tokyo-তেও বড় বড় বাড়ি দুলতে দেখা যায়। ৭.৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পের পর ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানে উপকূলে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত তৎপর হয় প্রশাসন এবং জারি করা হয় সতর্কতা। ২০১১ সালে ভয়াবহ সুনামিতে জাপানে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষের। এত বড় ভূমিকম্পের পর বড় আকারে সুনামি না হলেও ফের ফিরে এসেছে সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতি।


সুনামি আসলে কী?

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন – এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী সুনামি হল  ভূমিকম্প বা সমুদ্রের নিচের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তৈরি হওয়া একাধিক তরঙ্গের সমষ্টি। সুনামি হল ভয়াবহ বিশাল তরঙ্গ, যা সমুদ্রের নিচের ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের গভীরতায় সুনামি তরঙ্গের উচ্চতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায় না। কিন্তু যখন তরঙ্গগুলো উপকূলের দিকে এগোতে থাকে, তখন সমুদ্রের গভীরতা কমতে থাকায় এগুলির উচ্চতা ক্রমশ আরও বেশি হতে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট usgs.gov অনুসারে সুনামি হল সমুদ্রের সেই ঢেউ, যা সৃষ্টি হয় -

১। সমুদ্রের নিচে বা কাছাকাছি বড় ভূমিকম্প

২। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত

৩। জলের নিচে ভূমিধস

৪। স্থলভাগের ভূমিধস, যেখানে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জলে ধাক্কা দেয়



সুনামির আকার

সুনামি তরঙ্গের গতি নির্ভর করে সমুদ্রের গভীরতার উপর, তরঙ্গের উৎস থেকে দূরত্বের উপর নয়। গভীর সমুদ্রে সুনামি তরঙ্গ জেট বিমানের মতো দ্রুতগতিতে চলতে পারে এবং অগভীর জলে পৌঁছালেই কেবল তাদের গতি কমে যায়। ক্ষুদ্র সুনামি (শুধু সংবেদনশীল যন্ত্রে ধরা পড়ে) থেকে বিশাল আকারের সুনামি হতে পারে। যেমন ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি, যা পুরো মহাসাগরের উপকূলকে প্রভাবিত করেছিল।

গুগলে আরও খোশখবর 


 ভূমিকম্প কীভাবে সুনামি সৃষ্টি করে?

ভূমিকম্পের মাত্রা (Magnitude) একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলেও একমাত্র নয়।

ভূমিকম্প অবশ্যই অগভীর সমুদ্র অঞ্চলে হতে হবে এবং সমুদ্রতলকে স্থানচ্যুত করতে হবে।

Thrust ভূমিকম্প (যেখানে ভূত্বক উল্লম্বভাবে সরে যায়) সুনামি সৃষ্টি করার সম্ভাবনা বেশি।

Strike-slip ভূমিকম্প (যেখানে ভূত্বক পাশ বরাবর সরে যায়) সাধারণত সুনামি সৃষ্টি করে না, তবে বিরল ক্ষেত্রে বড় মাত্রার (> M8) ভূমিকম্পে ছোট সুনামি দেখা গেছে।


যদিও সুনামিকে প্রায়শই জোয়ারের তরঙ্গ (টাইডাল ওয়েভ) বলে অভিহিত করা হয়। যদিও সমুদ্রবিজ্ঞানীরা তা মানতে নারাজ, কারণ জোয়ার-ভাটার সঙ্গে এই বিশাল তরঙ্গগুলির সম্পর্ক খুবই সামান্য।তাই বিজ্ঞানীরা ‘tidal wave’ শব্দটি ব্যবহার করেন না, কারণ এগুলো জোয়ার-ভাটার কারণে হয় না। সুনামির ঢেউ সাধারণ বাতাস বা ঝড়ে তৈরি হওয়া ঢেউয়ের মতো নয়। সুনামি একাধিক ঢেউয়ের সমষ্টি, যা তীর অতিক্রম করে অনেক দূর পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে।

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code