খোশখবর ডেস্কঃ অনন্ত মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমরা সেভাবে এখনও কিছুই জেনে উঠতে পারি নি। তবে পৃথিবীর বুকে বসানো নানা টেলিস্কোপ, স্পেস টেলিস্কোপ ও বিজ্ঞানীদের কষা অঙ্ক সৌরজগৎ নিয়ে অনেকটাই খবর সামনে এনে দিয়েছে। আমাদের সৌরজগতের মালিক সূর্য আসলে আমাদের সবচেয়ে কাছের তারা। সূর্য ছাড়া পৃথিবী অচল। আমাদের অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু, শক্তির আধার এবং পরম বন্ধু হলো সূর্য। এই নক্ষত্রকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে পৃথিবীর প্রতিটি স্পন্দন।
দেখে নিন এই ভিডিওটি
কিন্তু মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন বারবার আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তিমূলে নাড়া দিয়ে যায়—এই জীবনদায়ী সূর্য কি চিরকাল এভাবেই আলো ও তাপ দিয়ে যাবে? প্রশ্ন হল সূর্য কী চিরকাল বেঁচে থাকবে? বিজ্ঞানীদের উত্তর হল না। একদিন আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস সূর্যের মৃত্যু হবে।
কিন্তু সূর্যের কবে কীভাবে মৃত্যু হবে? এই নিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিখ্যাত বিজ্ঞান ওয়েবসাইট স্পেস ডট কম। বিজ্ঞানীদের গণনা অনুসারে সূর্য এখন তার জীবনের মাঝবয়েসী পর্যায়ে রয়েছে।
গুগলে আরও খোশখবর
বিজ্ঞানীদের নিখুঁত গণনা অনুযায়ী, সূর্যের বর্তমান বয়স প্রায় ৪৬০ কোটি (৪.৬ বিলিয়ন) বছর। এটি এখন তার জীবনচক্রের মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে। আজ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বা ৫ বিলিয়ন বছর পরে সূর্যের জ্বালানি শেষ হতে শুরু করবে এবং তখনই সূর্যের ‘মৃত্যু প্রক্রিয়া’ শুরু হবে। অর্থাৎ একটা উনুনের কয়লা যেভাবে সব পুড়ে গেলে তা নিভে যায় সূর্যের ভেতরের গ্যাসও সব শেষ হয়ে গেলে তার মৃত্যু হবে।
আসলে সূর্য একটি নক্ষত্র, আর সব নক্ষত্রের মতোই তারও জীবনচক্র আছে। সূর্যের কেন্দ্রে ফিউশন পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন জ্বলে হিলিয়ামে পরিণত হয়। পারমানবিক চুল্লির মত সেই তাপ থেকেই আমরা রোদ - তাপ পাই। তবে একসময় সেই হাইড্রোজেন ফুরিয়ে যাবে।
তখন সূর্য ভয়ঙ্করভাবে ফুলে উঠবে। তা বর্তমান আকারের প্রায় ২০০ গুণ পর্যন্ত বড় হয়ে যাবে।তাকে বলা হবে লাল দৈত্য বা রেড জায়ান্ট পর্যায়। এই অবস্থায় সূর্য এতটাই বড় হবে যে তা ফুলে ফেঁপে উঠে পৃথিবীকে গিলে ফেলতে পারে। অর্থাৎ সূর্যের মৃত্যু দেখার আগেই সেই সময়ে যদি উন্নত পৃথিবীবাসী থেকে থাকে তাদের মৃত্যু হবে।
বিজ্ঞানীদের হিসেব প্রায় ১০০ কোটি বছরের মধ্যে পৃথিবীর জল শুকিয়ে যেতে শুরু করবে। সূর্যের তাপ ও বিকিরণে বায়ুমণ্ডল ধ্বংস হবে। সূর্য রেড জায়ান্ট হলে পৃথিবী পুড়ে একদম শুষ্ক পাথুরে গ্রহে পরিণত হবে। বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুনের মতো গ্যাস ভর্তি গ্রহগুলোর বাইরের স্তরও ক্ষয়ে যেতে পারে।
শেষে সূর্য তার বাইরের স্তর ঝরিয়ে ফেলে ছোট, ঘন এবং মৃত নক্ষত্রে পরিণত হবে—যাকে বলা হচ্ছে তারার শ্বেত বামন বা হোয়াইট ডোয়ার্ফ দশা। এর পর এটি ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে নিভে যাবে। তবে কোনোটাই কোটি কোটি বছরের আগে ঘটবে না। অর্থাৎ মহাবিশ্বে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। আমাদের জীবনদায়ী সূর্যেরও মৃত্যু হবে মহাকালের নিয়মে।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ