খোশখবর ডেস্কঃ আগামী ৬ জুলাই পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে তার বার্ষিক ঘুরে চলায় এমন এক অবস্থানে পৌঁছাবে, যখন সূর্য থেকে এর দূরত্ব হবে বছরের মধ্যে সর্বাধিক। জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় অ্যাফেলিয়ন (Aphelion)। জ্যোর্তিবিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই ২০২৬-এ পৃথিবী সূর্য থেকে প্রায় ১৫ কোটি ২১ লক্ষ কিলোমিটার দূরে থাকবে।
আসলে পৃথিবীর কক্ষপথ পুরোপুরি গোলাকার নয়, বরং সামান্য উপবৃত্তাকার। তাই বছরে একবার পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে এবং একবার সবচেয়ে দূরে অবস্থান করে। পেরিহেলিয়নের সময় পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকে। জানুয়ারিতে পেরিহেলিয়ন (Perihelion)-এর সময় পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব ছিল প্রায় ৩১ লক্ষ মাইল (৫০ লক্ষ কিলোমিটার)।
নাসার তথ্য পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা ৯ মিনিটে একবার পরিক্রমা সম্পন্ন করে। এই অতিরিক্ত সময়ের কারণেই প্রতি চার বছরে একটি লিপ ইয়ার হয় এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়।
গুগলে আরও খোশখবর
প্রতি বছরের শুরুতে পৃথিবী প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ ৯ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে, আর প্রায় ছয় মাস পরে অ্যাফেলিয়নের সময় সেই দূরত্ব বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি ২১ লক্ষ কিলোমিটার।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অ্যাফেলিয়নের সময় আকাশে সূর্যকে পেরিহেলিয়নের তুলনায় প্রায় ৩.৫ শতাংশ ছোট দেখায় এবং সূর্যালোকের তীব্রতাও প্রায় ৭ শতাংশ কম থাকে। তবে এই পরিবর্তন এতটাই সামান্য যে খালি চোখে তা বোঝা সম্ভব নয়। তবে যথাযথ সোলার ফিল্টার ছাড়া কখনও সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয় বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন
সূর্য থেকে পৃথিবী সবচেয়ে দূরে থাকলে গরম কি কমবে? অনেকের ধারণা, সূর্য থেকে বেশি দূরে থাকলে পৃথিবী ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না। কারণ বিজ্ঞানীদের হিসেব পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনের মূল কারণ সূর্য থেকে দূরত্ব নয়, বরং পৃথিবীর ২৩.৫ ডিগ্রি অক্ষীয়ভাবে হেলে থাকা। জুলাই মাসে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকায় সূর্যের আলো তুলনামূলকভাবে বেশি সরাসরি এসে পৌঁছায়। ফলে দিন বড় হয় এবং তাপমাত্রাও বেশি থাকে। তাই দূরত্বের পার্থক্য হলেও পৃথিবীর আবহাওয়ায় এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে না।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


0 মন্তব্যসমূহ